নাসিরনগরে নিত্যপণ্যের দাম চড়া, দিশেহারা নিম্ন-মধ্যবিত্ত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, চিনি, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও শাক-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) নাসিরনগর সদর বাজার, কলেজ মোড়, হাসপাতাল মোড় ও গোকর্ণ বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।ক্রেতাদের দাবি, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন খরচ কমাতে হচ্ছে।৫০০ টাকার বাজার এখন ১ হাজারেও হচ্ছে নাবাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ পণ্য কেনা যেত, এখন ১ হাজার টাকা খরচ করেও একই পরিমাণ বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।হাসপাতাল মোড়ের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সবসময়ই ভোগান্তির শিকার। ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আমাদের পকেট কেটে তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। বাজারে কোনো মনিটরিং নেই।”সিন্ডিকেটের অভিযোগ, ভিন্ন বক্তব্য বিক্রেতাদেরস্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পণ্য মজুত করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছেন। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, ডাল ও পেঁয়াজের বাজারে এমন প্রবণতা রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।তবে বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং উত্তরাঞ্চল থেকে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়ছে। আড়তে পর্যাপ্ত সবজি না পাওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও দাম কমিয়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।নাগালের বাইরে ফলের দাম, পুষ্টি নিয়েও উদ্বেগনিত্যপণ্যের পাশাপাশি বিদেশি আপেল, মাল্টা, আঙুর ও আনারসহ দেশি বিভিন্ন ফলের দামও বেড়েছে বলে ক্রেতারা জানান। তাঁদের অভিযোগ, ৩০০ টাকার নিচে ভালো মানের ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।ফলে নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার খাদ্যতালিকা থেকে ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।বাজার তদারকি জোরদারের দাবিসংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা, পরিবহন ব্যয়, সম্ভাব্য অনিয়ম এবং কার্যকর তদারকির ঘাটতি পণ্যমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাজারে সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া নাসিরনগরের সাধারণ মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে স্বস্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন।