হত্যার আগে ‘লাশ গুম’ জানতে চ্যাটজিপিটি—যুক্তরাষ্ট্রে চাঞ্চল্য
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহ (২৬) হত্যার আগে অনলাইনে লাশ গুমের উপায় নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় একটি জলাশয় থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহের সন্ধানে সেখানে তল্লাশি চলছিল, তবে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ তার কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, ইন্টারস্টেট ২৭৫ সংলগ্ন এলাকায় এসব দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে বৃষ্টিকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি গত সপ্তাহে লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন।এর আগে শুক্রবার টাম্পার কাছে একটি ব্রিজের ওপর থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে একাধিক আঘাত ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং তার বিরুদ্ধে দুটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।আদালতের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার কয়েকদিন আগে থেকেই হিশাম বিভিন্ন প্রশ্ন করেন যেমন, মরদেহ লুকানোর উপায়, গাড়ির ভিআইএন নম্বর পরিবর্তন এবং অস্ত্র রাখার নিয়ম নিয়ে। তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার রাতে তার ফোনের লোকেশন লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানের কাছেই ছিল।তদন্তকারীরা তাদের অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগ ও ফরেনসিক প্রমাণ পেয়েছেন, যেখানে লিমন ও বৃষ্টির ডিএনএ শনাক্ত হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, অভিযুক্ত পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং আলামত নষ্টের চেষ্টা করেছেন।ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বর্তমানে অভিযুক্ত হিশাম কারাগারে রয়েছেন। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।