কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি দখল ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে ওঠা ঝুপড়ি দোকান ও বস্তি নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। সৈকতে দোকান বসানোর জন্য ইস্যুকৃত সব সাময়িক কার্ড বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কোনো সাময়িক কার্ড ইস্যু না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।গত সোমবার (১ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।আদেশে বলা হয়, সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন কোনো সাময়িক কার্ড দেওয়া হবে না। এছাড়া ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ইস্যুকৃত ও নবায়নকৃত সব কার্ড ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আর নবায়ন করা হবে না। কার্ডধারীরা নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে পালন না করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশের আলোকে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।এর আগে গত মার্চে কক্সবাজার সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১২ মার্চ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। চার দিনের অভিযানে সহস্রাধিক অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বালিয়াড়িকে দখলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।তবে উচ্ছেদের তিন মাসের মধ্যেই সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আবারও ঝুপড়ি দোকান ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সুগন্ধা পয়েন্টের প্রবেশমুখের দুই পাশের বালিয়াড়িতে শত শত দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকানে শামুক-ঝিনুক, আচার, চা, পান ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী এক বীচকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঈদের আগে দুই রাতের মধ্যেই অধিকাংশ দোকান পুনরায় বসানো হয়েছে। তার দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় বালিয়াড়ি দখল করা হয়েছে।অন্যদিকে দোকান মালিকদের দাবি, উচ্ছেদের পর পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবিকার তাগিদে তারা আবারও দোকান বসাতে বাধ্য হয়েছেন। কয়েকজনের অভিযোগ, নতুন করে দোকান বসানোর জন্য প্রতিটি দোকান থেকে ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।পরিবেশবাদীরা বলছেন, বালিয়াড়ি দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তাদের মতে, অন্যথায় কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য আবারও হুমকির মুখে পড়বে।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আঃ মান্নান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।