সাতক্ষীরার সরকারি মৎস্য খামারে অনিয়মের অভিযোগ, মাছ বিক্রির টাকা নিয়ে প্রশ্ন
সাতক্ষীরার এল্লারচর সরকারি মৎস্য খামারে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বদলির আদেশ পাওয়ার পরও সরকারি স্লিপ ছাড়া লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই) ভোর থেকে খামারে মাছ ধরা ও বিক্রির কার্যক্রম শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তাদের অভিযোগ, সরকারি খাস জমিতে অবস্থিত এ মৎস্য খামারটি নির্ধারিত নীতিমালা ও ইজারা প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, খামারের দায়িত্বে থাকা ডা. শফিকুল ইসলামের সময়ে সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম হয়েছে। মাছ বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে অন্যভাবে ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তারা। পাশাপাশি মাছ বিক্রির সময় ক্রেতাদের সরকারি স্লিপ বা রসিদ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় মৎস্যচাষী বলেন, সরকারি খামারে মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম অনুসরণ না করে বড় পরিসরে মাছ বিক্রি হলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে, তেমনি সাধারণ চাষীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।এদিকে খামারের দায়িত্বে থাকা ডা. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খামারের কাজই হলো মাছ কেনাবেচা করা। বিভিন্ন বকেয়া পরিশোধের জন্য মাছ বিক্রি করা হয়। ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি আকারের পোনা মাছ বিক্রির নিয়ম রয়েছে এবং এর রসিদ রয়েছে। তবে রসিদ বর্তমানে তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।বদলির আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।অন্যদিকে কয়েকজন স্টাফের অভিযোগ, খামারে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। অফিসের কনফারেন্স রুম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দিয়ে সেই অর্থ যথাযথভাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। এছাড়া সরকারি বাসভবনে থাকার পরও ভাড়া উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি. এম. সেলিম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। একই দিনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির আদেশের কাগজও পেয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত রেটে মাছ বিক্রি করতে হবে, প্রতিটি বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি স্লিপ দিতে হবে এবং সব তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এর বাইরে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রুম ভাড়া ও সরকারি বাসভবন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।