বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

কলকাতায় হোটেল সংকট, চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা

ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে আবাসন সংকটে পড়েছেন বাংলাদেশের বহু রোগী ও তাদের স্বজন। বিশেষ করে ক্যানসারের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা না পাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।গত ১৮ আগস্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের বিপুলসংখ্যক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগী ও স্বজনদের আবাসন সংকট আরও তীব্র হয়েছে।হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা না পেয়ে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসা অনেককে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কোথাও কোথাও হোটেল পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি ভারতীয় রোগী ও তাদের স্বজনরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ক্যানসার রোগীদের শারীরিক অবস্থার কারণে সাধারণত হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা করাই সুবিধাজনক। কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি রোগী ও স্বজনদের অনেকেরই পছন্দ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা কিংবা নিউমার্কেট। তবে বর্তমানে হাসপাতালসংলগ্ন এলাকাতেও হোটেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন তারা।চট্টগ্রামের বাসিন্দা সামিয়া বেগম চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালে এসেছেন। সঙ্গে রয়েছেন তার স্বামী মাহবুব আলম। তারা গত ২৭ আগস্ট কলকাতায় আসেন।সামিয়া বেগম বলেন, স্থানীয় একটা হোটেলে উঠেছি। কিন্তু সেখানে পুলিশ এসে আমাদের হোটেল ছাড়তে বলে। সেই থেকে খাওয়াদাওয়া আমাদের কিছু নেই।বাংলাদেশের নেত্রকোনা থেকে বোনকে নিয়ে ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন রাজু। হাসপাতালে বসেই তিনি হোটেল খুঁজছিলেন।তিনি বলেন, কোথাও হোটেল দিচ্ছে না। এখন পেশেন্ট নিয়ে খুব বিপদে পড়ে রয়েছি। দুদিন আগে এসেছি, হোটেলে ছিলাম। কিন্তু আজ হোটেল থেকে বের করে দিয়েছে।হোটেল বন্ধ থাকলে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের ভিসা দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।এদিকে সমস্যায় পড়া রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পরিচালক ডা. অর্ণব গুপ্ত বলেন, চিকিৎসার জন্য আসা অনেক বাংলাদেশি রোগী আবাসন সংকটে পড়েছেন। হাসপাতালের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটা সম্ভব তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে সবার জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।হোটেল বন্ধের কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের যাতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়, সে জন্য হাসপাতালের আশপাশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

কলকাতায় হোটেল সংকট, চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা