লেবানন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মোড়ে
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মার্কিন উদ্যোগ বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তেহরান শুরু থেকেই বলে আসছে, যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হতে হবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি। ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখলে ইরানও সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে।এদিকে হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ, আলোচনায় হিজবুল্লাহকে কোনো পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে এখনো ইসরায়েল, লেবানন বা যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের বাহিনী পিছু হটবে না এবং সামরিক অভিযানও চলবে।এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। যদিও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটকে থাকা রাজস্ব ছাড় এবং হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে। বিপরীতে ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যুতে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে।