শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

লাখাই হাসপাতালে হাম রোগীর চাপ, বেড সংকটে মেঝেতেই শিশুদের চিকিৎসা

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪ জন শিশু আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে তীব্র বেড সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক শিশুকে মেঝে, বারান্দা এবং বিকল্প কক্ষে রেখে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি সময়ে এ পর্যন্ত ১৩৮ জন হাম আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে নতুন করে রোগী বাড়তে থাকায় বিদ্যমান শয্যা অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েকটি প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবায় চাপ তৈরি হয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী সামছুল আরেফীন বলেন, অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে থাকায় কিছু ওষুধের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নতুন অর্থবছরে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ হলে সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তিনি আরও জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। কিন্তু অনেক অভিভাবক এ বিষয়ে সচেতন না হওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মোক্তাদির বলেন, সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়েও হাসপাতালের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অধিকাংশ রোগী ৭ থেকে ১০ দিনের চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। চলমান ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের কেবিনসহ কয়েকটি অফিস কক্ষেও হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে অন্য শিশুদের উপস্থিতি নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

লাখাই হাসপাতালে হাম রোগীর চাপ, বেড সংকটে মেঝেতেই শিশুদের চিকিৎসা