টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নদীতীর ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে জেলার লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া গ্রামের কালিগঞ্জ এলাকার বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ নদীভাঙন ও পানি প্রবেশে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোয়াই নদীর প্রবল স্রোতে চরহামুয়া গ্রামের কালিগঞ্জ এলাকায় নদীর তীরের একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে সেই ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে কয়েকটি বসতবাড়ি, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।এলাকাবাসী জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এবার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খোয়াই নদীর পানি ও ভাঙনের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই খোয়াই নদীর ভাঙন ও প্লাবনে সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। তাই স্থায়ীভাবে নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনরোধে কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।