সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

ঘুমের মধ্যে চিৎকার? যে লক্ষণে সতর্ক হবেন

ঘুমের মধ্যে কথা বলা, বিড়বিড় করা কিংবা হঠাৎ চিৎকার করে ওঠার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের এমন আচরণের কথা মনে না থাকাও স্বাভাবিক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে কথা বলা বা স্লিপ টকিং গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়।চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘুমের মধ্যে কথা বলাকে সমনিলোকুই (Somniloquy) বলা হয়। এটি এক ধরনের প্যারাসমনিয়া, অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ বা ঘটনা। ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়েই এটি হতে পারে।ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলে ঘুমের মধ্যে কথা বলার প্রবণতা বাড়তে পারে। এর সঙ্গে থাকতে পারে ঘুমের ঘাটতি অনিয়মিত ঘুমের সময় অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ জেট ল্যাগ বা সময়ের পরিবর্তন ঘুমের মান খারাপ হওয়া স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের সমস্যা অ্যালকোহল বা কিছু পদার্থের ব্যবহার তবে অনেক ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে কথা বলার নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।সবসময় নয়। ঘুমের মধ্যে কথা বলা REM ও non-REM উভয় পর্যায়েই হতে পারে। তাই ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ কিছু বললেই সেটি তার দেখা স্বপ্নের অংশ এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।এমনকি ঘুমের মধ্যে বলা কথার সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোনো অর্থপূর্ণ সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। তাই ঘুমের মধ্যে কেউ কিছু বললে সেটিকে তার গোপন কথা বা মনের সত্যিকারের কথা হিসেবে ধরে নেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।মাঝেমধ্যে কয়েকটি কথা বলা বা বিড়বিড় করা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবে আচরণটি হঠাৎ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে শুরু হলে, ঘন ঘন হলে কিংবা এর সঙ্গে শারীরিক নড়াচড়া যুক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।চিৎকার করা: ঘুমের মধ্যে নিয়মিত জোরে চিৎকার, ভয় পাওয়ার মতো শব্দ বা তীব্র আবেগ প্রকাশ করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।হাত-পা ছোড়া বা লাথি মারা: ঘুমের মধ্যে ঘুষি, লাথি, হাত-পা ছোড়া কিংবা বিছানা থেকে লাফিয়ে ওঠার মতো আচরণ সাধারণ স্লিপ টকিং থেকে আলাদা হতে পারে। এটি REM Sleep Behavior Disorder বা অন্য কোনো প্যারাসমনিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।স্বপ্ন অনুযায়ী শরীর নড়াচড়া করা: স্বপ্নে কাউকে তাড়া করার মতো দৌড়ানোর চেষ্টা, আত্মরক্ষার মতো হাত-পা চালানো বা স্বপ্নের সঙ্গে মিল রেখে চিৎকার করার ঘটনা হলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।নিজের বা অন্যের আঘাত লাগা: ঘুমের মধ্যে পড়ে গিয়ে নিজে আহত হওয়া কিংবা পাশে থাকা ব্যক্তিকে আঘাত করার মতো ঘটনা ঘটলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।দিনে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব: রাতে অস্বাভাবিক আচরণের পাশাপাশি দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব থাকলে ঘুমের মান ও অন্য কোনো ঘুমের সমস্যা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।গুরুতর কোনো উপসর্গ না থাকলে ঘুমের মান উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা উপকারী হতে পারে।এ ছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠার চেষ্টা করুন ঘুমের ঘাটতি এড়িয়ে চলুন সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন কমান ঘুমের আগে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন শান্ত ও আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন ঘুমের মধ্যে কথা বলা হঠাৎ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে শুরু হলে, নিয়মিত চিৎকার বা আক্রমণাত্মক নড়াচড়া হলে, অথবা নিজের কিংবা অন্যের আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।এ ছাড়া রাতে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁসফাঁস করে ওঠা কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলেও চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।প্রয়োজনে চিকিৎসক ঘুমের ইতিহাস, ওষুধ ব্যবহারের তথ্য ও অন্যান্য উপসর্গ পর্যালোচনা করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে স্লিপ স্টাডি বা পলিসমনোগ্রাফি করার প্রয়োজন হতে পারে। সবশেষে, মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে কথা বলা সাধারণ ঘটনা হতে পারে। শুধু বিড়বিড় বা কথা বলার কারণে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এর সঙ্গে চিৎকার, ঘুষি, লাথি, পড়ে যাওয়া বা স্বপ্ন অনুযায়ী তীব্র শরীরচর্চা যুক্ত হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ঘুমের মধ্যে চিৎকার? যে লক্ষণে সতর্ক হবেন