মাধ্যমিক শিক্ষায় স্মার্ট ক্লাসরুম, সরকারের বড় ডিজিটাল উদ্যোগ
দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী দেশের ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩০০টি নতুন স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান আরও ৩০০টি ক্লাসরুমের সংস্কার, রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে।মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এটি চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে।মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, চীন সরকারের সহযোগিতায় নির্বাচিত স্কুলগুলোতে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে, যেখানে বিশ্বমানের শিক্ষাসুবিধা থাকবে।প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল (আইইপি) থাকবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাস রেকর্ড হবে, যা পরবর্তীতে ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এসব পাঠে অংশ নিতে পারবে।এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে ক্লাস নোট ও কোর্সওয়্যার সহজেই সংগ্রহ করতে পারবে।মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, এই প্রকল্প দেশের শিক্ষা খাতে ডিজিটাল বিভাজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, ১০টি রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি শিক্ষা দপ্তরের জন্য আধুনিক মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় ক্লাউড ডাটা সেন্টার গড়ে তোলা হবে।
প্রকল্পটি ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের পর মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।