শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই দেখবেন

বর্তমানে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ছবি তোলা, ভিডিও দেখা, মোবাইল ব্যাংকিং, গেমিং এবং দৈনন্দিন নানা কাজে এটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাই নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড, ডিজাইন বা ক্যামেরার মেগাপিক্সেল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রয়োজন, বাজেট এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য—সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হবে।আগে বাজেট নির্ধারণ করুনস্মার্টফোন কেনার প্রথম ধাপ হলো বাজেট ঠিক করা। কত টাকা ব্যয় করবেন তা আগে নির্ধারণ করলে প্রয়োজনের বাইরে থাকা মডেলগুলো সহজেই বাদ দেওয়া যায়। ফোনের পাশাপাশি কভার, স্ক্রিন প্রটেক্টর, চার্জার বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও বাজেটের মধ্যে রাখুন।প্রসেসরই পারফরম্যান্সের মূল চাবিকাঠিপ্রসেসরকে স্মার্টফোনের ‘মস্তিষ্ক’ বলা হয়। ফোনের গতি, মাল্টিটাস্কিং, গেমিং ও অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অনেকটাই এর ওপর নির্ভরশীল।সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মিড-রেঞ্জ প্রসেসর যথেষ্ট।গেমিং, ভিডিও এডিটিং বা ভারী কাজের জন্য শক্তিশালী প্রসেসর বেছে নেওয়া উচিত।পর্যাপ্ত র‍্যাম ও স্টোরেজ নির্বাচন করুনবর্তমান সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে ৬–৮ জিবি র‍্যাম এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজ বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য উপযুক্ত।তবে যারা নিয়মিত ভিডিও ধারণ করেন, অনেক ছবি সংরক্ষণ করেন বা বড় গেম খেলেন, তাদের জন্য ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভালো বিকল্প হতে পারে।ব্যাটারি ও ফাস্ট চার্জিং গুরুত্বপূর্ণসারাদিন নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৫,০০০ mAh বা তার বেশি ব্যাটারি বেছে নেওয়া ভালো।ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকলে অল্প সময়েই ফোন চার্জ হয়ে যায়, যা ব্যস্ত জীবনে বাড়তি সুবিধা দেয়।ডিসপ্লের মান যাচাই করুনস্মার্টফোনের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অংশ হলো ডিসপ্লে। তাই কেনার আগে খেয়াল রাখুন—AMOLED বা OLED ডিসপ্লে হলে রঙ আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়।৯০Hz বা ১২০Hz রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিং ও গেমিংকে আরও মসৃণ করে।পর্যাপ্ত ব্রাইটনেস থাকলে রোদেও স্ক্রিন স্পষ্ট দেখা যায়।শুধু মেগাপিক্সেল নয়, ক্যামেরার মানও দেখুনভালো ছবি শুধু বেশি মেগাপিক্সেলের ওপর নির্ভর করে না।ক্যামেরা বাছাইয়ের সময় বিবেচনা করুন—ক্যামেরা সেন্সরের মানসফটওয়্যার প্রসেসিংঅপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS)কম আলোতে ছবি তোলার সক্ষমতাকেনার আগে বাস্তব ছবির নমুনা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।সফটওয়্যার আপডেট নিশ্চিত করুননিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা আপডেট পাওয়া গেলে ফোন দীর্ঘদিন নিরাপদ ও দ্রুত থাকে।ফোন কেনার আগে জেনে নিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কত বছর সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট দেবে।৫জি ও অন্যান্য কানেক্টিভিটি সুবিধাভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করলে ৫জি সমর্থিত ফোন কেনা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।এছাড়া নিশ্চিত করুন ফোনে রয়েছে—Wi-FiBluetoothNFC (প্রয়োজনে)USB Type-CDual SIM সুবিধাঅফিসিয়াল ওয়ারেন্টি নিনসবসময় অনুমোদিত শোরুম বা বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফোন কিনুন। এতে আসল পণ্য, অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া সহজ হয়।নিজের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিনসবচেয়ে দামি ফোনই সবার জন্য সেরা নয়।ছবি তুলতে ভালোবাসলে ক্যামেরা গুরুত্ব দিন।গেমিংয়ের জন্য শক্তিশালী প্রসেসর ও ভালো কুলিং সিস্টেম বেছে নিন।বেশি বাইরে থাকলে বড় ব্যাটারির ফোন নিন।অফিসের কাজের জন্য নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স, ভালো ডিসপ্লে এবং দীর্ঘ সফটওয়্যার আপডেটকে অগ্রাধিকার দিন।শেষ কথাস্মার্টফোন কেনার সময় শুধু বিজ্ঞাপন বা বাহ্যিক ডিজাইনে আকৃষ্ট না হয়ে বাজেট, প্রসেসর, র‍্যাম, স্টোরেজ, ব্যাটারি, ডিসপ্লে, ক্যামেরা, সফটওয়্যার আপডেট এবং বিক্রয়োত্তর সেবা—সব দিক বিবেচনা করুন। একটু সময় নিয়ে বিভিন্ন মডেল তুলনা করলে একই বাজেটে আরও ভালো স্মার্টফোন কেনা সম্ভব।

নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই দেখবেন