সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

তাহিরপুরের ৪ খেয়াঘাটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ, ৪ টাকার বদলে ১০ টাকা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাটে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মিয়ারচর, বিনাকুলী, লাউড়েরগড় ও বড়উপটিলাগাঁও খেয়াঘাটে জনপ্রতি ৪ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) তাহিরপুর উপজেলার রতনশ্রী এলাকার বাসিন্দা সাইমন আখঞ্জী এ আবেদন করেন। আবেদনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পারাপার নিশ্চিত এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেলা পরিষদের অধীন এসব খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নদী পারাপার করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত ৪ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এতে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ টাকা গুনতে হচ্ছে।আবেদনকারীর দাবি, স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী চারটি খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সে হিসাবে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ টাকা আদায় হলে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।তবে আবেদনে কোনো ব্যক্তি বা ইজারাদারকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।এছাড়া জেলা পরিষদের ইজারা চুক্তিতে নির্ধারিত ভাড়া, ইজারাদারের দায়িত্ব এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে কী নিয়ম রয়েছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।জনস্বার্থে আবেদনে চারটি খেয়াঘাটে দ্রুত নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর, ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমানভাবে টানানো, নিয়মিত তদারকি এবং অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।আবেদনকারী বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে কোনো খেয়াঘাট পরিচালনা করা উচিত নয়। জনগণ যেন হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে নদী পারাপার করতে পারেন, সেটিই তার মূল উদ্দেশ্য। জেলা পরিষদ প্রশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তাহিরপুরের ৪ খেয়াঘাটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ, ৪ টাকার বদলে ১০ টাকা