শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

৫০ বছরের সুগন্ধা নদীভাঙন: নলছিটিতে বিলীন ১০ গ্রামের শতাধিক বসতভিটা

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সুগন্ধা নদীর ভয়াল ভাঙনে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার একের পর এক গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে কুলকাঠি ইউনিয়নের সরইসহ অন্তত ১০টি গ্রামের শতাধিক পরিবার বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্ষা মৌসুম এলেই নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।সরই গ্রামের বাসিন্দা মাকসুদা বেগম (৭০) বলেন, তাঁর স্বামীর একটি বাড়ি বহু আগেই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরে ছেলেরা কিছু দূরে নতুন বাড়ি নির্মাণ করলেও সেটিও নদীগর্ভে চলে যায়। এমনকি তাঁর স্বামীর কবরও সুগন্ধা নদীর ভাঙনে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে অন্যের জমিতে ছোট একটি ঘর তুলে কোনোভাবে বসবাস করছেন তারা।স্থানীয় ইউপি সদস্য বেল্লাল হোসেন মোল্লা জানান, নদীভাঙনে অনেক পরিবার তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটির শেষ চিহ্নটুকুও হারিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।সরই গ্রামের বাসিন্দা রশিদ মোল্লা (৫০) বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে সুগন্ধা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এই সময়ে শত শত পরিবার বসতঘর, পানের বরজ, গাছপালা ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ হারিয়েছে। তবুও ভাঙনরোধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।এলাকাবাসীর দাবি, সুগন্ধা নদীর ভাঙনে তিমিরকাঠি, দরিরচর, খোজাখালী, মল্লিকপুর, সিকদারপাড়া, বহরমপুর, ষাটপাকিয়া, কাঠিপাড়া, অনুরাগসহ ১০টিরও বেশি গ্রামের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে খোজাখালী, দরিরচর, তিমিরকাঠি ও সিকদারপাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।স্থানীয় বাসিন্দা হ্যাপী বেগম (৩৮) বলেন, নদীভাঙন এখন তাদের ঘরের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রতিদিন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।এ বিষয়ে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা বলেন, ঝালকাঠি ও নলছিটির ভাঙনপ্রবণ এলাকায় একটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রাথমিক জরিপ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন মিললে প্রয়োজনীয় ভাঙনরোধী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫০ বছরের সুগন্ধা নদীভাঙন: নলছিটিতে বিলীন ১০ গ্রামের শতাধিক বসতভিটা