বাজেটের আগেই সিগারেটে আগুন, কৃত্রিম সংকটে পকেট কাটছে সিন্ডিকেট
বাজেট কার্যকরের আগেই দেশের সিগারেট বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই বাজারে সিগারেটের দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘোষণার পর থেকেই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সিগারেট বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতারা।নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি পর্যায় থেকেই তাদের বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে হচ্ছে।বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেটে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রকাশের পর কিছু কোম্পানি ও ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ সীমিত করা হয়। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সেই সুযোগে বাড়ানো হয়েছে দাম।এদিকে যেসব পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেসব পণ্যের বাজারে এখনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, আবার কোথাও কোথাও মূল্য আরও বেড়েছে।ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা বাজেট ঘোষণার পর থেকে বাস্তবায়নের মধ্যবর্তী সময়ে বিশেষ বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার পর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পথ বেছে নেয়। এ প্রবণতা রোধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।তাদের মতে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোক্তা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।