বিএনপি চুপ্পুকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার হোসেন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবেই তাকে একটি নির্দিষ্ট সময় রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয় এবং এখন ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।তিনি বলেন, গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেননি এবং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।আখতার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা শুধু রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় পর্যন্ত প্রযোজ্য। পদ ছাড়ার পর ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্বের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।তিনি উদাহরণ হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, পদ ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।আখতার হোসেন বলেন, “সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত। রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় এতদিন তার বিষয়ে তদন্ত হয়নি। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় বের করা প্রয়োজন।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের বিষয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।এর আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।