সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধের দাবি বাংলাদেশ সনাতন পার্টির
আজ ২১ আগষ্ট ২০২৬ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অনুষ্ঠিত হয় উক্ত সভায় বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)। তারা আরও বলেন বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের করণীয়" শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, গণফোরাম। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মিল্টন বৈদ্য, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রী নারায়ণ দত্ত, সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির পরিচালনা কমিটি। সাজন কুমার মিশ্র, জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, বাগেরহাট-৪। পল্টন দাস, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। অনিল পাল, সাধারণ সম্পাদক, ভক্ত সংঘ সোসাইটি, বাংলাদেশ। নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, সভাপতি, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) চট্টগ্রাম শাখা।সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনুপ কুমার দত্ত। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন কুমার রায়। স্বাগত বক্তব্য দিবেন শায়ান বালা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)। ধন্যবাদ জ্ঞাপনে প্রণবানন্দ মহারাজ, উপদেষ্টা, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)। আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অ্যাডভোকেট লিটন চন্দ্র বণিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)। প্রাণতোষ তালুকদার, সভাপতি, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। ডা. আনিন্দ্য দত্ত, সভাপতি, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-ঢাকা মহানগর উত্তর। টনি মল্লিক, সভাপতি, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। উত্তম কুমার দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-কেন্দ্রীয় কমিটি। ইন্দ্রজিৎ মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-কেন্দ্রীয় কমিটি। সভা সঞ্চালনায় করবেন সন্তোষ চন্দ্র দাস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববৃন্দসহ, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতৃত্ববৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের জাতীয় নেতৃত্ববৃন্দ।বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি নারায়ন চন্দ্র মজুমদার দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভয়ভীতি, নির্যাতন, ধর্মীয় উপাসনালয় ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকবৈষম্যের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন কুমার রায় বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সরকারি-বেসরকারি চাকরি থেকে অপসারণ বা চাকরিচ্যুতি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনে বৈষম্য, এবং ডিসি, এসপি, সচিবসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে প্রতিনিধিত্ব ও সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা সংবিধানসম্মত দায়িত্ব।মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক শয়ান বালা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ও কার্যকর "সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন" প্রণয়ন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও বিচার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানের নিরাপত্তা, দখল ও হয়রানি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।সংগঠনের উপদেষ্ঠা প্রনবানন্দ মহারাজসভায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী পুরুষোত্তম রামের অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে "তৌহিদী জনতা" পরিচয়ে সংঘটিত কোনো হামলা, ভাঙচুর, ভয়ভীতি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর দ্রুত মুক্তি দাবী করেন। BSPসংগঠনের স্থায়ী কমিটির সদস্য সুবীর কান্তি ধর বলেন- কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ থাকলে তার বিচার করার এখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রের আইন ও আদালতের। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে না। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।সভায় আরও দাবি করা হয় সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।