হরমুজ সংকটে সমুদ্র বিপদে, জাহাজে ছড়াচ্ছে ক্ষতিকর জীবাণু
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় শুধু বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিই নয়, এবার বড় হুমকির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক পরিবেশও। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে দেড় হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এসব জাহাজে জমে থাকা ক্ষতিকর অণুজীব ও সামুদ্রিক জীব ভবিষ্যতে বড় পরিবেশগত সংকট তৈরি করতে পারে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শত শত তেলবাহী ট্যাংকার কয়েক মাস ধরে একই এলাকায় নোঙর করে থাকায় জাহাজের নিচের অংশে বিষাক্ত শেওলা, অণুজীব, ঝিনুক ও শামুকজাতীয় প্রাণীর বংশবিস্তার বাড়ছে। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা ‘বায়োফাউলিং’ বলে থাকেন।গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন কোনো এলাকায় বিপুলসংখ্যক জাহাজ স্থির থাকলে স্থানীয় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পরে এসব জাহাজ আবার আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল শুরু করলে জাহাজের তলায় থাকা ক্ষতিকর প্রজাতি নতুন নতুন সমুদ্র এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড ও উডস হোল ওশেনোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশনের গবেষণায় বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি সামুদ্রিক জীবের প্রজনন ও খাদ্যশৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার আগে এসব জাহাজের তলা পরিষ্কার, জীবাণুমুক্তকরণ ও পর্যবেক্ষণ জরুরি। তা না হলে হরমুজ সংকট দীর্ঘমেয়াদে সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। সীমিত আকারে কিছু তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও নতুন করে টোল আদায় শুরু করেছে ইসলামী রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে জাহাজ চলাচলে অচলাবস্থার কারণে অর্থনীতির পাশাপাশি সমুদ্রের পরিবেশও পড়েছে বড় ঝুঁকিতে।