সাংবাদিক শফিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে গেন্ডারিয়া থানা রিপোর্টার ক্লাব। সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনি ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাধানের সুযোগ থাকলেও মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা উদ্বেগজনক।শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সূত্রাপুর ফায়ার সার্ভিসের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীকালের মধ্যে শফিককে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিক দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তার প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে কারও আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো কিংবা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সরাসরি মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।সাংবাদিক নেতারা বলেন, শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলাটি কোন আইনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব এতে কাজ করেছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।তারা আরও বলেন, পুলিশ সদস্যদের আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। আদালতের নির্দেশনা ও যথাযথ তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই ছিল সঠিক পদ্ধতি।শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে বক্তারা বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা না হলে তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের প্রতিও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য নেতিবাচক বার্তা দেবে।বক্তারা বলেন, “আগামীকালের মধ্যে হাফিজুর রহমান শফিককে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”আলোচনায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, গত দেড় দশকে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার নিয়ে সাংবাদিক সমাজ বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করছে।তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান, শফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পেছনের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।বক্তারা আরও বলেন, অপরাধ করলে অবশ্যই আইনের আওতায় বিচার হতে হবে। তবে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির মাধ্যমে কোনো সাংবাদিককে দমন করার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।
গেন্ডারিয়া থানা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সত্যবানীর সন্ধানে সম্পাদক ও প্রকাশক কবির শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।