খুলনার ডুমুরিয়ায় দুটি খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, সমালোচনার মুখে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ফেরত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। খাল খননে শ্রমিকের বদলে ভেকু ব্যবহার, মাটি যথাযথভাবে না সরানো এবং বৃক্ষরোপণের নামে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি খাল পুনঃখননে মোট ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় ত্রাণ মন্ত্রণালয়। গত এপ্রিল মাসে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত এবং সাহস ইউনিয়নের ভোলডাঙা খাল থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালি গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত খননকাজ শুরু হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রকল্প দুটির প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ছিল। শ্রমিক দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ভেকু ব্যবহার করা হয়। খননের মাটি খালের পাড়ে ফেলে রাখায় বৃষ্টিতে তা আবার খালে পড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে প্রায় পাঁচ হাজার বৃক্ষরোপণ দেখিয়ে বিল তোলার অভিযোগ ওঠে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বৃষ্টির মধ্যে খাল খনন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর মন্ত্রণালয় থেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২০ জুন থেকে প্রকল্প দুটির খননকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।সরেজমিনে সাহস ইউনিয়নের ভোলডাঙা খাল থেকে ভদ্রা নদী পর্যন্ত এলাকায় দেখা যায়, ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইস গেটের সামনে খননের মাটির তেমন অস্তিত্ব নেই। সেখানে নামমাত্র একটি বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের দক্ষিণ পাশেও পানি রয়েছে। এর মাঝখানে রোপণ করা বেশ কিছু গাছের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে।অন্যদিকে বিলডাকাতিয়া এলাকায় খনন করা খালের পাড়ে ফেলা মাটিরও অনেক জায়গায় অস্তিত্ব নেই বলে স্থানীয়রা জানান।স্থানীয়দের ভাষ্য, ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্দেশ্যে কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্প নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে অর্ধেক কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৭৭৪ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, খননকাজের পরও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ থাকায় প্রকল্প দুটির পুরো বিল পরিশোধ করা হয়নি। অব্যয়িত প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রকল্পের তহবিলে ছিল। কাজ শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে ওই অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা হয়েছিল এমন অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি খাল পুনঃখননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তার কিছু জানা নেই বলে জানান তিনি।ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, যতটুকু কাজ হয়েছে, পরিমাপ করে ততটুকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বর্ষার কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। কাজ বন্ধ থাকায় অব্যয়িত টাকা সরকারকে ফেরত দেওয়াই যুক্তিযুক্ত ছিল এবং সেটিই করা হয়েছে।