মমতা ইস্তফা না দিলে কী হবে? সংবিধান কী বলছে
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার ৫ মে কালীঘাটের বাসভবন থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি এখনই ইস্তফা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই দেখছেন না এবং দাবি করেন, ভোটে পরাজয় নয় বরং ভোট লুটের অভিযোগ রয়েছে।এদিকে বিদায়ী সরকারের মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে মমতা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলে কী হবে?সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতির জন্য ভারতের সংবিধানে নির্দিষ্ট কোনো আলাদা ধারা নেই। তবে প্রচলিত সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সাধারণত রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।ভারতের সংবিধানের ১৬৪(১) ধারা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সুপারিশক্রমে দায়িত্বে থাকেন। মেয়াদ শেষ হলে স্বাভাবিকভাবেই সরকারের কার্যকাল শেষ হয়ে যায়। সেই সময় পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকতে পারেন।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করলেও ৭ মে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার মুখ্যমন্ত্রীর পদ কার্যত শেষ হয়ে যাবে। তবে নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে রাজ্যপাল অস্থায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন।বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নতুন বিধানসভা গঠন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই। প্রয়োজনে ফ্লোর টেস্ট বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার যাচাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী সরকার গঠিত হবে।ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার কোনো নজির নেই বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। তাই বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল, কারণ নতুন সরকার গঠন ও শপথগ্রহণের সময়সূচি এখন রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।