রোববার, ২১ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

জীবনযুদ্ধে হার মানেননি সালমা, বাদাম বিক্রি করে সন্তানদের মুখে খাবার তোলেন

রাজশাহীর কোর্ট মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম। দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে তার জীবন যেন এক নিরন্তর সংগ্রামের গল্প। মাদকাসক্ত স্বামীর অবহেলা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও তিনি হার মানেননি। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।সালমা বেগম ভাড়া বাসায় থাকেন। সংসারের দায়িত্ব প্রায় একাই বহন করতে হয় তাকে। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একের পর এক তিনটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। দিনের কাজ শেষে বাসায় ফিরে নিজের ও সন্তানদের জন্য রান্না করেন। তারপর একটু বিশ্রামের সুযোগ না নিয়েই শুরু হয় জীবনের আরেক অধ্যায়।বিকেলের পর তিনি দুই-তিন কেজি বাদাম, কিছু ছোলা ও মোটরদানা ভেজে বিক্রির জন্য বের হন। পায়ে হেঁটে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে সেগুলো বিক্রি করেন। তবে অনেকেই বাকিতে কিনে নেওয়ায় নগদ অর্থ হাতে পান না সবসময়।সেই কারণে নগদ বিক্রির আশায় একদিন তিনি রাজশাহী নগরীর মুক্তমঞ্চ এলাকায় যান। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই ব্যবসা করা স্থানীয় বিক্রেতাদের বাধার মুখে জনসমাগমস্থলে বসতে পারেননি। বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে এক কোণে বসে বাদাম, ছোলা ও মোটরদানা বিক্রি করতে থাকেন।রাত প্রায় নয়টা পর্যন্ত বসে থেকেও তিনি মাত্র দেড়শ টাকার পণ্য বিক্রি করতে সক্ষম হন। হতাশার সুরে তিনি বলেন, আগে জানতাম না এখানে বসতে দেবে না। জানলে এত দূর থেকে গাড়িভাড়া করে আসতাম না। এখন মনে হচ্ছে লস হবে।সালমা বেগমের গল্প কেবল একজন নারীর গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। জীবনের কঠিন বাস্তবতা, অভাব-অনটন আর প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি থেমে যাননি। সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করে যাচ্ছেন।জীবন সত্যিই বিস্ময়কর। বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ কত কষ্টই না সহ্য করে। সালমা বেগম সেইসব অদম্য মানুষের একজন, যিনি প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে পরিশ্রম, সাহস ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জীবনযুদ্ধে হার মানেননি সালমা, বাদাম বিক্রি করে সন্তানদের মুখে খাবার তোলেন