রৌমারীর ঐতিহ্যবাহী শ্রমের হাটে অবহেলা, দুর্ভোগে শত শত শ্রমিক
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শাপলা চত্বরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রমের হাট আজও শত শত শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের অন্যতম ভরসাস্থল। প্রতিদিন ভোর থেকেই এখানে জড়ো হন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। কাজের আশায় অপেক্ষা করেন তারা, আর নিয়োগদাতারা প্রয়োজন অনুযায়ী এখান থেকেই শ্রমিক নিয়ে যান।স্থানীয়দের মতে, কয়েক দশকের পুরোনো এই শ্রমের হাট রৌমারী অঞ্চলের শ্রমবাজারের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বহু পরিবারের জীবিকা সরাসরি এই হাটকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।তবে এত গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে এখনো গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা কিংবা আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শ্রমিকদের। প্রতিদিনই নানা দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।শ্রমিকদের দাবি, একটি নিরাপদ ও নির্দিষ্ট অপেক্ষাকেন্দ্র, বিশ্রামাগার এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য কল্যাণকেন্দ্র ও তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।সচেতন মহলের অভিমত, শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই কৃষি, নির্মাণ ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সচল রয়েছে। তাই শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে রৌমারীর ঐতিহ্যবাহী শ্রমের হাটকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই শ্রমের হাট একটি আদর্শ শ্রমবাজারে পরিণত হতে পারে।