রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

কাজ ছাড়াই কোটি টাকার বিল, ইইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ছাড়াই বিল পরিশোধ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাতা-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা ছাড়ের ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসান শওকত।অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ভুয়া পরিমাপ দেখিয়ে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘুষ লেনদেন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।অনুসন্ধানে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজে বাস্তব কাজ ও নথিপত্রের মধ্যে অসামঞ্জস্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।বাস্তবে ৮ তলা, কাগজে ১০ তলাপুরান ঢাকার শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নথিতে ১০ তলা ভবনের কাজ শেষ দেখানো হলেও সরেজমিনে ভবনটি ৮ তলা পর্যন্ত নির্মিত বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, নবম ও দশম তলার বিভিন্ন কাজের বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। ওই সময় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো. হাসান শওকত বিল অনুমোদন করেন বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।এ ছাড়া রাজধানীর আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজেও কাজের সঙ্গে বিলের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘুষ লেনদেনের ভিডিও নিয়ে অভিযোগঅনুসন্ধানে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে সরকারি অফিসে বসে টাকা লেনদেনের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে প্রকৌশলী হাসান শওকতের সামনে নগদ টাকা রাখা ও গোনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।তবে হাসান শওকত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদাররা নিজেদের মধ্যে টাকা লেনদেন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।সম্পদ নিয়েও প্রশ্নঅভিযোগ রয়েছে, চাকরির সময়ে স্ত্রী ও স্বজনদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন হাসান শওকত। জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজ ছাড়াই কোটি টাকার বিল, ইইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ