বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী: মামুনুল হক

৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির ও শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে ইসলামি বইমেলায় শাপলা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শাপলা কর্নার উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।মামুনুল হক বলেন, একটি জাতির রাজনীতি, বিবর্তন ও পরিবর্তনের পেছনে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জাতি তার সংস্কৃতিকে যেভাবে ধারণ করে, তার রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ পথচলাও সেভাবেই গড়ে ওঠে।২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় গণজাগরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই জাগরণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও পবিত্র চেতনার ভিত্তিতে হয়েছিল। তার ভাষ্য, নবীর ইজ্জতের হেফাজতের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ ও কোরবানির প্রস্তুতি একজন মুমিনের ইমানের দাবি।মামুনুল হক বলেন, শাপলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে দুটি ধারা স্পষ্ট হয়েছে—একটি নবীপ্রেম, ইমান ও বিশ্বাসের ধারা এবং অন্যটি নাস্তিক্যবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের ধারা। ইমান, বিশ্বাস ও রাসুলপ্রেমের ধারাকে কোনোভাবেই নাস্তিক্যবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের কাছে নতজানু হতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ তৈরি হয়েছে। একইভাবে ২০১৩ সালের শাপলার শাহাদাতের চেতনা আরও শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ভিত্তি তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানও সেই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, আগামীর বাংলাদেশকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করতে হলে শাপলার চেতনাকে ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি এই চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।শাপলা স্মৃতি সংসদের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা শহীদদের প্রামাণ্য তালিকা ও স্মারকগ্রন্থ ‘শহীদনামা’ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন কোনো শহীদের তথ্য প্রামাণ্যভাবে পাওয়া গেলে শহীদনামার পরবর্তী সংস্করণে তা যুক্ত করা হবে।শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাপলা স্মৃতি সংসদ প্রতিটি শহীদ পরিবারের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। শহীদ ও তাদের পরিবারের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করাকে সংগঠনটি গৌরবের ও নাজাতের মাধ্যম মনে করে।তিনি আরও বলেন, শাপলার চেতনাকে শুধু রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সাংস্কৃতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাপলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।শাপলা গণহত্যার তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য উপস্থাপনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানান মামুনুল হক। পাশাপাশি শাপলার রাতের ঘটনাবলি এবং পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরার উদ্যোগের কথা বলেন তিনি।শাপলা কর্নার সম্পর্কে তিনি বলেন, শাপলাকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের লেখক, সাহিত্যিক ও কবিদের লেখা বিভিন্ন বই ও প্রকাশনা এক জায়গায় পাঠক-দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলায় শাপলা কর্নারের কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি শাপলা স্মৃতি সংসদের নতুন প্রকাশনাও অব্যাহত থাকবে।

নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী: মামুনুল হক