দিনাজপুরের ‘লিচু চত্বর’ নিয়ে বিতর্ক, মূল পরিকল্পনাকারীর নাম নেই
দিনাজপুর শহরের কলেজমোড়ে স্থাপিত ‘লিচু চত্বর’ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থাপনাটি তৈরির উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিজের বলে দাবি করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভেটেরিনারি অনুষদের অধ্যাপক ড. নাজমুল হাসান পারভেজ। তবে উদ্বোধনের পর স্থাপনার নামফলকে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে অন্য ব্যক্তির নাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, হাবিপ্রবির অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল হাসান পারভেজ ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর শহরের কলেজমোড়ে ‘লিচু চত্বর’ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। একই বছরের ৮ অক্টোবর তৎকালীন জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমের কাছেও আবেদন করেন তিনি।এরপর তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ‘লিচু চত্বর’ স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরও আবেদন করেন অধ্যাপক পারভেজ।পরবর্তী সময়ে স্থাপনাটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ‘লিচু চত্বর’ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন রংপুর বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম।তবে অধ্যাপক পারভেজের অভিযোগ, উদ্বোধনের পর স্থাপনার নামফলকে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে দিনাজপুর পৌরসভার তৎকালীন প্রশাসক ও উপসচিব রিয়াজ উদ্দিনের নাম দেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁর নিজের বা হাবিপ্রবির নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের একাংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বলছেন, যে ব্যক্তি স্থাপনাটির পরিকল্পনা করেছেন, তাঁর প্রতি ন্যূনতম সৌজন্যতা ও স্বীকৃতি দেখানো হয়নি।নিজের পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরে অধ্যাপক ড. নাজমুল হাসান পারভেজ বলেন, দিনাজপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত হলেও শহরে লিচুকে ঘিরে কোনো স্থাপনা ছিল না। সেই ভাবনা থেকেই কলেজমোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিচুর স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা তাঁর মাথায় আসে।তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রায় দুই বছর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর ২০২৩ সালে আবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁর পরিকল্পনা গ্রহণ করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়।অধ্যাপক পারভেজ বলেন, তিনি আশা করেছিলেন হাবিপ্রবিকে এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যা শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। কিন্তু উদ্বোধনের পর অন্য ব্যক্তির নাম পরিকল্পনাকারী হিসেবে দেখে তিনি হতাশ হয়েছেন।এদিকে বিষয়টি নিয়ে নিজের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে ২০২৬ সালের ২৯ জুন দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবারও চিঠি দিয়েছেন অধ্যাপক পারভেজ। চিঠিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেও কোনো সদুত্তর পাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, স্থাপনাটি উদ্বোধনের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারছেন না। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
‘লিচু চত্বর’ ঘিরে ওঠা এই বিতর্কে এখন প্রশ্ন উঠেছে স্থাপনাটির মূল পরিকল্পনাকারী কে এবং নামফলকে তাঁর নাম বাদ পড়ল কীভাবে? বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।