সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

লালনের গান নিয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজবাড়ীর সূচনা

রাজবাড়ীর প্রত্যন্ত গ্রামের মাটি থেকে উঠে এসে এবার দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন সংগীতশিল্পী সূচনা শেলী। বাংলার লোক ও মরমি সংগীত, লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন এবং বাংলার মানুষের জীবন-সংস্কৃতিকে গানের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন তিনি।আগামী ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিত হবে ৬ষ্ঠ বিশ্ব নোমেডিক গেমস। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বের লোকগানের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেবেন সূচনা শেলী। তাঁর সঙ্গে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে তাঁর ব্যান্ড দল ‘দিব্যজ্ঞানী’।এর আগে ২০২৫ সালে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়ে শতাধিক দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সূচনা। সেই সাফল্যের পর এবার আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের লোকসংগীত তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।রাজবাড়ী সদর উপজেলার লক্ষ্মীকোল গ্রামের মেয়ে সূচনার সংগীতে হাতেখড়ি তাঁর বাবা জলিল সরদারের কাছে। ‘জলিল বাউল’ নামে পরিচিত এই বাউলশিল্পীর কাছ থেকেই ছোটবেলায় বাউল ও লোকসংগীতের তালিম নেন তিনি।চার বোনের মধ্যে তৃতীয় সূচনা শৈশব থেকেই বাবার সঙ্গে সংগীতচর্চা শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে লোক ও মরমি সংগীতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।লালন শাহের দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তা সূচনার সংগীতচর্চার অন্যতম ভিত্তি। তবে শুধু লালনগীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবা পাগলা, মনমোহন দত্ত, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম ও মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানসহ বিভিন্ন সাধক ও লোককবির গান পরিবেশন করেন তিনি।সূচনা শেলী বলেন, বাংলার লোকসংগীত শুধু সুর বা বিনোদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন, আত্মঅনুসন্ধান, মানবিকতা ও দর্শনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই ঐতিহ্য বিশ্বের মানুষের সামনে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাকে আনন্দের পাশাপাশি বড় দায়িত্ব হিসেবেও দেখছেন সূচনা। ২০২৫ সালে কিরগিজস্তানে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের অভিজ্ঞতা এবার তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে বলে জানান তিনি।এবারের পরিবেশনায় বাংলার মাটি ও মানুষের জীবন, লালনের মানবতাবাদী দর্শন এবং মরমি সংগীতের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সূচনা ও তাঁর দল। রাজবাড়ীর লক্ষ্মীকোল গ্রামের মাটি থেকে শুরু হওয়া সেই সংগীতযাত্রা এবার পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে। বাবার কাছ থেকে পাওয়া বাউলগানের উত্তরাধিকার সঙ্গে নিয়ে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে বাংলাদেশের লোকসংগীতের স্বকীয়তা তুলে ধরতে প্রস্তুত সূচনা শেলী।

লালনের গান নিয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজবাড়ীর সূচনা