সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

আমদানির চাপে সংকটে দেশীয় লবণ শিল্প, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি

বিদেশ থেকে অবাধে লবণ আমদানির কারণে চরম সংকটে পড়েছে দেশের সম্ভাবনাময় দেশীয় লবণ শিল্প। মাঠে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার প্রান্তিক লবণ চাষি। দেশীয় শিল্প রক্ষা এবং চাষিদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।সোমবার কক্সবাজারের চৌফলদন্ডী এলাকার প্রান্তিক লবণ চাষিদের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।চাষিদের অভিযোগ, একদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, অন্যদিকে একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির চেষ্টা করছে। এতে বাজারে বিদেশি লবণের আধিপত্য বাড়ছে এবং দেশীয় উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।বাংলাদেশ লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চৌফলদন্ডীর লবণ চাষি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত লবণের দাম এখন উৎপাদন খরচেরও নিচে নেমে গেছে। দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ থাকা সত্ত্বেও চোরাই পথে ও এলসির মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তিনি অবিলম্বে এই আমদানি বন্ধ এবং দেশীয় লবণ শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।স্থানীয় চাষিরা জানান, প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে যে ব্যয় হচ্ছে, বাজারে তার চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে লোকসান পুষিয়ে নিতে অনেকেই উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।লবণ শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদনই যথেষ্ট। সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলেও তা দেশীয় মজুদ ও চাষিদের প্রণোদনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব। তারা লবণের স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিক সরকারি সংরক্ষণাগার নির্মাণেরও দাবি জানান।সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী মৌসুমে লবণ চাষে বড় ধরনের ধস নামতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আমদানির চাপে সংকটে দেশীয় লবণ শিল্প, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি