লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর ওই নারী মৃত সন্তান প্রসব করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।ভুক্তভোগী সুরমা আক্তার (২৫) দাবি করেন, বিবাদীদের হামলার কারণে তার গর্ভের সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি এখনো তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর জগবন্ধু গ্রামের প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী সুরমা আক্তারের সঙ্গে একই বাড়ির রাকিব (২৪), পারবেজ (২৬), আলম (৩০), তাদের বাবা আবদুর রব (৫০) ও মা শেফালী বেগমের (৪৮) দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ মার্চ ২০২৬ দুপুরে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুরমার বসতঘরের সামনে গিয়ে তাকে মারধর করেন। ওই সময় তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।সুরমার অভিযোগ, হামলার সময় তাকে মাটিতে ফেলে পেটে আঘাত করা হয়। এ ছাড়া তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা ওসমান নামের এক ব্যক্তিকেও ছুরি দিয়ে আহত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।পরে আহত অবস্থায় সুরমাকে উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কমলনগরে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট ২০২৬ সুরমা আক্তার একটি মৃত সন্তান প্রসব করেছেন বলে দাবি করেন।সুরমা বলেন, “বিবাদীদের মারধরের আঘাতেই আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”বিবাদীদের দাবি, অভিযোগ মিথ্যাঅভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী পক্ষ। পারবেজ গং বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তাদের দাবি, শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে মারধরের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাদের হয়রানি করতেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে।ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য, তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।