তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে পারমাণবিক রিয়্যাক্টর বন্ধ, রেড অ্যালার্ট জারি
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্সে নতুন করে আবহাওয়া সংকট দেখা দিয়েছে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ফ্রান্সের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহের কারণে আশপাশের নদীগুলোর পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একটি পারমাণবিক রিয়্যাক্টর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সাধারণত শীতলীকরণের জন্য নদীর পানি ব্যবহার করে। তবে নদীর পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় উৎপাদন সীমিত করতে হয়। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ ফ্রান্সের গল্ফেক-২ রিয়্যাক্টর বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সাঁ-আলবান-২, বুগে-৩ এবং নোজঁ-২ রিয়্যাক্টরের উৎপাদনও কমানো হয়েছে।ফ্রান্সের পরিবেশবিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ী, নদীর পানির তাপমাত্রা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয় পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। এর লক্ষ্য নদীর জলজ প্রাণী ও পরিবেশকে অতিরিক্ত তাপের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া।এদিকে প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে হাজার হাজার মানুষ নদী, হ্রদ ও বিভিন্ন জলাশয়ে নামছেন। তবে এতে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন, যাদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী।সরকার জানিয়েছে, হিটস্ট্রোক ও তাপজনিত অসুস্থতার ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।পরিস্থিতির অবনতির কারণে ফ্রান্সের ৫০টিরও বেশি প্রশাসনিক অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো তাপ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কিছু ট্রেন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।