রামেক হাসপাতালে যুক্ত হলো ৬০ লাখ টাকার আধুনিক ‘বায়োফায়ার’ মেশিন
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর রোগীদের দ্রুত ও নির্ভুল চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংযোজন করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘বায়োফায়ার ফিল্মঅ্যারে’ মেশিন। এর ফলে ‘ব্লাড কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি’ পরীক্ষার ফল পেতে যেখানে আগে প্রায় ৭২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন তা সম্পন্ন হবে মাত্র ২ ঘণ্টায়।হাসপাতালের আইসিইউ মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে স্থাপিত এই আধুনিক যন্ত্রটি মাল্টিপ্লেক্স পিসিআর প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ। এটি মাত্র একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীসহ ১০০টিরও বেশি রোগজীবাণু দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।হাসপাতাল সূত্র জানায়, দেশের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে এ প্রযুক্তি থাকলেও রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে এটিই প্রথম।রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মুস্তফা কামাল জানান, দীর্ঘ চার বছরের প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশে যন্ত্রটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থাপন করা হয়েছে।আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তির এই ‘বায়োফায়ার’ মেশিনের বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। প্রতিটি পরীক্ষার ব্যয় হতে পারে ১৬ হাজার থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা।একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যন্ত্রটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক দেবকিশোর গুপ্ত। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি রাজশাহী অঞ্চলের গুরুতর রোগীদের সংক্রমণ শনাক্ত ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগজীবাণু শনাক্ত হওয়ায় সময়মতো সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। এতে চিকিৎসার সাফল্য বাড়বে এবং অনেক রোগীর প্রাণ রক্ষা করা সহজ হবে।