বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

রাত ১১টার পর ঘুম? হার্টের ঝুঁকি বাড়ছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন, টিভি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে মানুষের ঘুমের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই নিয়মিত রাত ১১টার পর ঘুমাতে যাচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে পুনরুদ্ধার করে, মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।গবেষণায় দেখা গেছে, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য বেশি উপকারী। অন্যদিকে নিয়মিত দেরিতে ঘুমানোর ফলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক ব্যাহত হয়। এতে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা ও হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।শুধু হৃদযন্ত্র নয়, রাত জাগার কারণে ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও মুড পরিবর্তনের ঝুঁকিও বাড়ে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের মান উন্নত করতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং শান্ত পরিবেশে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। তাই রাত জাগার অভ্যাস ত্যাগ করে সময়মতো ঘুমানোই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি।

রাত ১১টার পর ঘুম? হার্টের ঝুঁকি বাড়ছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা