শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

সিলেটের কোরবানির হাট দখলে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতারা,

সিলেট নগরের কোরবানির পশুর হাট ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সিলেটের অধিকাংশ স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমঝোতার মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে।সিলেট -এ এবার কোরবানির পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় অস্থায়ী হাটও কমেছে। সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, এবার মাত্র পাঁচটি অস্থায়ী হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে, যেখানে আগের বছর ছিল নয়টি।সিলেট সিটি কর্পোরেশন -এর দরপত্র অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও যাচাই-বাছাই শেষে হাটগুলোর ইজারা চূড়ান্ত করা হয়।তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক নিলামের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ইজারাদার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজস্ব আরও বেশি হতে পারত বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।সবচেয়ে বড় হাট কাজিরবাজার পশুর হাট এবার নতুনভাবে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে আসে। আদালতের নির্দেশের পর হাটটি সিটি করপোরেশন বুঝে নিয়ে এক বছরের জন্য ইজারা দেয়। বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের একটি অংশ এই হাটের নিয়ন্ত্রণ নেয়।অন্যদিকে অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে শাহপরাণ বাজার, ট্রাক টার্মিনাল, তেমুখী, তেতলি ও মিরাপাড়া এলাকার হাটগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক ক্ষেত্রে একই দলের ভেতর সমন্বয়ের মাধ্যমে একক নামে ইজারা দেখানো হলেও ভেতরে একাধিক পক্ষ যুক্ত রয়েছে।এবার মোট পাঁচটি অস্থায়ী হাট থেকে রাজস্ব আয় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। যদিও সিটি করপোরেশন বলছে, স্থায়ী হাট থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আসায় সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি লাভবান হয়েছে।তবে সুশীল সমাজের একাংশ বলছে, হাট ইজারায় স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা না থাকলে রাজস্ব ক্ষতি ছাড়াও বাজার ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়বে।অন্যদিকে সিটি করপোরেশন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সব প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং শহরের যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমাতেই হাটের সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -এর একাধিক নেতার নাম ইজারা প্রক্রিয়ায় আসলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি, সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে।

সিলেটের কোরবানির হাট দখলে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতারা,