রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
চেকপোস্ট

যমজ সন্তান কেন হয়? জেনে নিন কারণ ও ঝুঁকি

একাধিক গর্ভধারণ বলতে বোঝায় যখন একজন নারী একই সময়ে একের বেশি সন্তান ধারণ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো যমজ সন্তান। তবে কিছু ক্ষেত্রে তিনটি বা তারও বেশি শিশুও একসঙ্গে গর্ভে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যমজ গর্ভধারণ স্বাভাবিক গর্ভধারণের তুলনায় আলাদা এবং এতে মা ও শিশুর জন্য বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।যমজ গর্ভধারণ কীভাবে হয়যমজ সাধারণত দুই ধরনের হয়-ডাইজাইগোটিক (ফ্র্যাটারনাল): একাধিক ডিম্বাণু পৃথকভাবে নিষিক্ত হলে তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে দুই শিশুর চেহারা ও বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে।মনোজাইগোটিক (আইডেন্টিকাল): একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু বিভক্ত হয়ে দুইটি ভ্রূণ তৈরি হয়। এদের জিনগত গঠন প্রায় একই থাকে।সম্ভাবনা কতটুকু গড়ে প্রতি ১০০০টি গর্ভধারণের মধ্যে প্রায় ৯টি ক্ষেত্রে যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও এই হার অঞ্চল ও জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।যমজ হওয়ার কারণযমজ গর্ভধারণের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে-১. মায়ের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে২. পারিবারিক ইতিহাস (বিশেষত মায়ের দিক থেকে)৩. In Vitro Fertilization (IVF) বা অন্যান্য ফার্টিলিটি চিকিৎসা৪. অতিরিক্ত ওজন বা উচ্চ BMI৫. আগে যমজ সন্তান হওয়ার ইতিহাস যমজ গর্ভধারণের লক্ষণকিছু সাধারণ লক্ষণ-পেট দ্রুত বড় হওয়া, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, শিশুর নড়াচড়া আগে বা বেশি অনুভব হওয়া, হরমোন (HCG) মাত্রা বেশি থাকা, হৃদস্পন্দন শোনা।সম্ভাব্য ঝুঁকিযমজ গর্ভধারণে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে- মায়ের ক্ষেত্রে: রক্তস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, Gestational Diabetes শিশুর ক্ষেত্রে: অকাল জন্ম, কম ওজন, শ্বাসকষ্ট বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে Twin-to-Twin Transfusion Syndrome-এর মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।যমজ গর্ভধারণে অনেক সময় স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিজারিয়ান প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া জন্মের পর দুই শিশুর যত্ন নেওয়াও তুলনামূলক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়।যমজ গর্ভধারণ আনন্দের হলেও এতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা, সুষম খাদ্য ও সচেতনতা মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যমজ সন্তান কেন হয়? জেনে নিন কারণ ও ঝুঁকি