বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

বিরলে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ, প্রকাশ্যে ধ্বংস

দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ রক্ষায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে জব্দ করা লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জাল প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বিরল উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক লক্ষাধিক টাকা মূল্যের জব্দকৃত নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়। এর আগে ১২ জুলাই প্রায় দেড় লক্ষ টাকা এবং ১৪ জুলাই প্রায় এক লক্ষ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ জাল বিনষ্ট করা হয়েছিল। টানা কয়েক দিনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল অপসারণে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সচেতন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাশয়ে অভিযান চালিয়ে মাছ শিকারে ব্যবহৃত ২৫টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ও ২০টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে আইন অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করা হয়।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের পোনা, ডিম এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধ্বংস হয়। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাশয়ের জীববৈচিত্র্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগও অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী, কারেন্ট জালসহ পরিবেশবিধ্বংসী উপকরণ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।জাল ধ্বংস কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিরল প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।প্রশাসন জানিয়েছে, দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ, জলজ সম্পদ রক্ষা এবং আইন বাস্তবায়নের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

বিরলে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ, প্রকাশ্যে ধ্বংস