হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার আসামির মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্নের অভিযোগ স্বজনদের
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে এনামুল হাসান (৩৫) নামে মাদক মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এনামুলের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পর তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এ নিয়ে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।নিহত এনামুল হাসান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমতলী এলাকার মৃত আব্দুর রফিকের ছেলে। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।জামিন আবেদনের দিন মৃত্যুর খবরনিহতের ভাই মো. কামরুল হাসান জানান, প্রায় তিন মাস আগে গাঁজাসহ আটক হওয়ার পর এনামুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর দাবি, এনামুলকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। গত মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ও তিনি সুস্থ ছিলেন।কামরুল হাসান আরও জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে এনামুলের জামিনের আবেদন করার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন সকাল ৭টার দিকে কারাগার থেকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।পরে মরদেহ দেখতে গিয়ে শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।হৃদরোগে মৃত্যুর দাবি কারা কর্তৃপক্ষেরহবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার বিলাল উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এনামুল হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাঁকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।এনামুলের মৃত্যুর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বজনদের অভিযোগে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে।