শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

তুলসী গ্যাবার্ডের বিস্ফোরক দাবি ৩০ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১২০ গোপন বায়োল্যাব

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত গোপন বায়োল্যাব বা জৈব গবেষণাগার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। তার দাবি, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টির বেশি বায়োল্যাবের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।শুক্রবার (১২ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে গ্যাবার্ড অভিযোগ করেন, এসব গবেষণাগারের অবস্থান, কার্যক্রম ও অর্থায়ন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি এসব ল্যাবের অস্তিত্ব অস্বীকার করেও জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।গ্যাবার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গবেষণাগারের অনেকগুলোতে অতীতে কিংবা বর্তমানে অত্যন্ত সংক্রামক ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবাণু নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে ‘গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পদ্ধতিতে কোনো ভাইরাস বা অণুজীবের সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বৈশ্বিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এবং স্বাস্থ্যখাতের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসব বিষয়ে জনগণের কাছে স্বচ্ছতা দেখাননি। বরং যারা বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিভিন্নভাবে চাপে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাবার্ডের প্রকাশিত নথিতে নির্দিষ্টভাবে ইউক্রেনের কয়েকটি গবেষণাগারের উল্লেখ থাকলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের ল্যাবগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে গ্যাবার্ড জানান, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এসব গবেষণাগারের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা শনাক্তের কাজ চলছে। তার মতে, ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এ বিষয়ে আরও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বায়োল্যাব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে ইউক্রেনে পরিচালিত গবেষণাগারগুলো নিয়ে চীন ও রাশিয়াও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছিল। গ্যাবার্ডের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

তুলসী গ্যাবার্ডের বিস্ফোরক দাবি ৩০ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১২০ গোপন বায়োল্যাব