লেভাসের আড়ালে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মুন্সী দিদার চক্রের বিরুদ্ধে
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৮ নম্বর চরকাদিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকজন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে মুন্সী দিদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগীদের দাবি, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।অভিযোগকারীদের মধ্যে বাহার উদ্দিন, ইসরাফিল, ছিদ্দিক ব্যাপারী, মিলন মাঝি, সপু ব্যাপারী, বেলাল হোসেন, কামাল হোসেন ও মোহাম্মদ আবু তাহেরের নাম রয়েছে। তাদের দাবি, আরও কয়েকজন ব্যক্তি একইভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।ভুক্তভোগী বাহার উদ্দিন, ইসরাফিল ও ছিদ্দিক ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, মুন্সী দিদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ছিদ্দিক ব্যাপারী আরও অভিযোগ করেন, মুন্সী দিদার ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক অবস্থানকে ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।অন্যদিকে হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবু তাহেরের অভিযোগ, মুন্সী দিদার তার দোকান থেকে মাদ্রাসার জন্য রড, সিমেন্ট ও টিন বাকিতে নিয়েছিলেন। তার দাবি, প্রায় ৭৫ হাজার টাকা পাওনা চাইলে সালমা আক্তারের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কমলনগর থানায় জিআর-৫৯/২৬ নম্বর মামলা করা হয়। তিনি মামলাটিকে হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর আদালতে মুন্সী দিদার ও তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে কয়েকটি মামলা করা হয়েছে। তারা যেসব মামলার কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো— সিআর-১৫৮/২৫, জিআর-৪৭/২৫, জিআর-৫৯/২৬ এবং সিআর-২৭১/২৬।ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি এসব মামলার বাদী ও সাক্ষী হিসেবে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাদের দাবি, পুরো বিষয়টির পেছনে মুন্সী দিদারের প্রভাব রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।এদিকে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও মুন্সী দিদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।ভুক্তভোগীরা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।অভিযোগগুলোর বিষয়ে মুন্সী দিদার বা তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।