খুলনা - মোংলায় বছরে হাজার কোটি টাকার মাদক বানিজ্য
সড়ক ও নৌ- পথ অতিক্রম করে প্রতি সপ্তাহে মাদকের চালান আসছে খুলনা ও দেশের দ্ধিতীয় বৃহত্তম নৌ বন্দর মোংলায়। মিয়ানমার ও ভারত থেকে নৌ ও সড়ক পথ অতিক্রম করে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার মাদক এ অঞ্চলে আসছে। যৌথ অভিযান চললেও মাদক নির্মুল হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় মাদক মামলা নিস্পত্তির জন্য ২২ টি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করলেও খুলনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জেলা জজশীপের অধীনে আদালত গুলোতে প্রায় ৪ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন আছে। যশোরের শার্শা, চৌগাছা, সাতক্ষীরার দেবহাটা ও কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে উইন কোরেক্স নামক সিরাপ আসছে। যা ফেন্সিডিলের নতুন সংস্করন। এক বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়। উইন কোরেক্স নামক এই নতুন মাদক বিক্রি হয় প্রতি বোতল ৭শত টাকা। মাদকসেবীদের কাছে নতুন এ মাদক বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তথ্য দিয়েছেন ফেনসিডিল ও উইন কোরেক্স মুলত একই। দুটোই কোডেন ফসফেট মিশ্রিত। ভারতে এটি কাশির সিরাপ হিসেবে ব্যবহ্নত হয়। গত দেড় বছরে বিজিবি যশোর সীমান্ত দিয়ে আসা ২ হাজার বোতল কোরেক্স সিরাপ জব্দ করে। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরাগাছি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা ও আইসের ব্যবসা জমজমাট। বিজিবি গত ৬ আগষ্ট সাতক্ষীরা সীমান্ত কোটি টাকা মুল্যের ১২ কেজি কুশ নামক মাদক জব্দ করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের অতিরিক্ত পরিচালক আসলাম হোসেন কোরেক্স নামক মাদক অনুপ্রবেশ রোধে এ দপ্তরের সকল কর্মচারীদের সতর্ক করেছেন। যশোর ৪৯ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান উইন কোরেক্স সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে কিছু জব্দ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাসান মাহমুদ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। খুলনায় আইন শৃংখলা কমিটির মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন মিয়ানমার ও পার্শবর্তী দেশ ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে ড্রোনের মাধ্যমেও মাদকের চালান দেশে আসছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। দেশে চোরাই পথে আসা মাদকের ২০ শতাংশ উদ্ধার হয়, ৮০ শতাংশ উদ্ধার হয় না। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড এর গবেষণা অনুযায়ী বছরে খুলনা ও মোংলায় হাজার কোটি টাকার মাদক বানিজ্য হয়। এর মধ্যে ইয়াবা ও আইস এর বিকিকিনি বেশি। সাথে কোরেক্স ও কুশ। এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে কক্সবাজার হয়ে যশোর, খুলনা ও মোংলায় আইস ও ইয়াবা সহজে প্রবেশ করে। খুলনা জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় বলা হয় পথের বাজার ও জিরো পয়েন্ট দিয়ে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক এ এলাকায় প্রবেশ করে। সাতক্ষীরা ও যশোর থেকে চোরাকারবারীরা যথাক্রমে সড়ক ও রেলপথ দিয়ে ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক নিয়ে আসে। কমিউটার ট্রেন বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত বেনাপোল থেকে মাদকের চালান আসতো। আইন মন্ত্রণালয়ের সুত্র জানান, মাদক মামলা নিস্পত্তির জন্য ঢাকায় ৪টি, চট্রগ্রামে ৩ টি এবং যশোরে একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল হলেও খুলনায় এধরণের ট্রাইবুনাল হচ্ছে না। আইন মন্ত্রণালয়ের ৩ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের নবগঠিত ট্রাইবুনালের তালিকায় খুলনার নাম নেই।