মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

পাঙাশের দাম বাড়ছে লাফিয়ে, নিম্ন আয়ের মানুষের পাতে সংকট

একসময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের অন্যতম ভরসার মাছ ছিল পাঙাশ। কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় এটি পরিচিত ছিল ‘গরিবের মাছ’ হিসেবে। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে চিত্র। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারমূল্যের চাপে এখন পাঙাশও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।দুই বছর আগেও যে পাঙাশ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই মাছ কিনতে হচ্ছে প্রায় ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আকার ও মানভেদে পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত।কেন বাড়ছে পাঙাশের দাম?মৎস্য খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, মাছের খাবার (ফিড), পোনা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে।খামার থেকে আড়ত এবং আড়ত থেকে খুচরা বাজার—প্রতিটি পর্যায়ে বাড়তি খরচ যোগ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তার ওপর।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের পাঙাশের গড় পাইকারি মূল্য এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে বড় পাঙাশের গড় পাইকারি দাম দাঁড়ায় প্রায় ২১৮ টাকা ৭৪ পয়সা কেজি, যা আগের তুলনায় বেশি।বিকল্প সাশ্রয়ী মাছেও একই চাপশুধু পাঙাশ নয়, সাধারণ মানুষের জনপ্রিয় তেলাপিয়া ও সিলভার কার্পের দামও বেড়েছে।তেলাপিয়ার পাইকারি দাম এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে প্রায় ১৬৭ টাকা ৭৬ পয়সা কেজিতে পৌঁছেছে। একইভাবে সিলভার কার্পের দামও বেড়েছে।ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কম দামের প্রাণিজ আমিষের উৎসগুলো ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।ডলার ও আমদানি খরচের প্রভাবমৎস্য উদ্যোক্তারা বলছেন, মাছের খাবারের কাঁচামাল আমদানিনির্ভর হওয়ায় ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় সরাসরি প্রভাব ফেলছে উৎপাদনে।এর সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় আগের দামে মাছ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।‘এখন মাছ কেনাও কঠিন’রাজধানীর এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, আগে কম দামের মাছ হিসেবে পাঙাশ কিনতেন। কিন্তু এখন বাজারে সবচেয়ে সস্তার মাছও অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।তিনি বলেন, অনেক দরদাম করেও শেষ পর্যন্ত ছোট পাঙাশ কিনতে হয়েছে, তাও ২৫০ টাকা কেজি দরে।বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আমিষের সংকট আরও বাড়তে পারে।

পাঙাশের দাম বাড়ছে লাফিয়ে, নিম্ন আয়ের মানুষের পাতে সংকট