দুঃসময়ের লড়াকু সৈনিক মাকছুদুর রহমান, সুদিনে মূল্যায়নের অপেক্ষায়
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মাকছুদুর রহমান। প্রায় ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে পথচলা এই নেতার প্রত্যাশা দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকারকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন।জানা যায়, মাকছুদুর রহমান কমলনগর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য এবং ৩ নম্বর চর লরেঞ্চ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি কমলনগর উপজেলা প্রজন্ম ’৭১ দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার কারণে দীর্ঘ সময় আদালতপাড়ায় দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে তাঁকে। বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১২০ দিন কারাগারেও থাকতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।মাকছুদুর রহমান বলেন, দলের দুঃসময়ে আমরা রাজপথে ছিলাম। হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন সহ্য করেছি। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কারাগারে কাটিয়েছি। কিন্তু এখন অনেক সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড ব্যক্তি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকেই মূল্যায়নের বাইরে রয়ে গেছেন।তিনি আরও বলেন, মামলাগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক হয়রানি ও মামলার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং বর্তমানে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন।স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে মাকছুদুর রহমান সবসময় মাঠে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং নানা চাপের মুখেও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি।চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিল, মাকছুদুর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম। হামলা-মামলা, কারাবরণ ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হওয়ার পরও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং কর্মীদের মনোবল আরও বৃদ্ধি পাবে।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলের কঠিন সময়ে যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে এবং নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে, তাদের মূল্যায়ন সংগঠনের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থা ও অংশগ্রহণও বাড়ে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মাকছুদুর রহমান এখন প্রত্যাশা করছেন, তাঁর মতো পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবদান দল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে এবং ভবিষ্যতে তাদের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করবে।