শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

দিরাইয়ে টিনের চাল কেটে চুরি, নিরাপত্তাহীনতায় বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার মজলিশপুর এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০টি বাড়িতে চুরি ও চুরির চেষ্টা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।চোরেরা কোথাও টিনের চাল কেটে, কোথাও স্টিলের দরজা ছিদ্র করে আবার কোথাও গ্রিল ও গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকছে। এসব ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রূপা, মোবাইল ফোন ও কাপড়চোপড় চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, ৬ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কয়েকটি বাড়িতে চুরি ও চুরির চেষ্টা হয়। এর আগে আগস্ট মাসেও একই এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটে। একই এলাকায় বারবার একই ধরনের ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।৮ সেপ্টেম্বর রাতে তপন সরকারের বাড়ির বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে চোরেরা। পরিবারের সদস্যরা শব্দ শুনে জেগে উঠলে তারা পালিয়ে যায়। একই রাতে ভাড়াটিয়া শিক্ষক রাহুল তালুকদারের ফাঁকা বাসার স্টিলের দরজা ছিদ্র করে চুরি করা হয়। সেখান থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার কাপড়চোপড় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।৯ সেপ্টেম্বর আশীষ ভৌমিকের বাড়ির টিনের চাল কেটে ঘরে ঢোকে চোর। আলমারি খোলার সময় শব্দ হলে তিনি জেগে উঠলে চোর পালিয়ে যায়। পরদিন শিক্ষক জয়সেন দাসের বাসার টিন কেটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।এর আগে ৩১ আগস্ট দিলীপ দেবনাথের বাড়ির চাল খুলে স্বর্ণের চেইন, বালা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে রসেন্দ্র সরকারের বাড়িতেও বাঁশ দিয়ে উঠে ইটের চুলা ভেঙে ঘরে ঢোকে চোরেরা। এ সময় মোবাইল ফোন, টর্চলাইট, প্রায় দুই ভরি রূপা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া ৬ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিকেশ দাস, ফারহানদের ভাড়াটিয়া, নিবেশ দেবনাথ, তপন বিশ্বাস, সুশেন বিশ্বাস, ঝুমন চৌধুরী ও আব্দুল হামিদ সরদারের বাসায় চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আদনান আহমেদের বাসার বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরেরা এলাকার বাড়িঘর ও বাসিন্দাদের চলাফেরা সম্পর্কে আগে থেকেই জানে। তাদের ধারণা, স্থানীয় বা আশপাশের এলাকার লোকজন এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে অনেক ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতেও আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন তারা।৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নানু মিয়া চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হরিপদ দেবনাথ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বেড়েছে। রাতে উঠতি বয়সী কিছু ছেলেকে দলবেঁধে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পুলিশের রাতের টহল আরও দৃশ্যমান করার দাবি জানান তারা।মুজিবুর রহমান বলেন, চুরি ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দিরাই পৌরসভার সাবেক প্রকৌশলী আশীষ তালুকদারও পৌরসভায় একের পর এক চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর একান্ত সচিব রুদ্র মিজান জানান, এলাকায় টহল জোরদার এবং চিহ্নিত চোরদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাগুলো স্থানীয় চোরদের কাজ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মজলিশপুর ও আরামবাগ এলাকায় ভোর পর্যন্ত পুলিশের টহল থাকে বলেও জানান তিনি।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, পৌরসভা এলাকায় এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়দের দাবি, চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি রাতে পুলিশের দৃশ্যমান টহল, সন্দেহভাজনদের নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হোক।

দিরাইয়ে টিনের চাল কেটে চুরি, নিরাপত্তাহীনতায় বাসিন্দারা