সৈয়দপুরে চিপস ফ্যাক্টরিতে ১ লাখ টাকা জরিমানা, উঠল অভিযান নিয়ে প্রশ্ন
নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে একটি চিপস কারখানাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযান নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ও একই প্রতিষ্ঠানে বারবার অভিযান চালানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে শহরের কয়া মিস্ত্রিপাড়া হিন্দুপাড়া এলাকায় মেসার্স নাওয়াজ হাসকিং মিলসের চাতালের ভেতরে থাকা একটি চিপস ফ্যাক্টরিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেন। সঙ্গে ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নীলফামারী জেলা পরিচালক শিহাব আহমেদ, সৈয়দপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আলতাফ হোসেন ও পুলিশ সদস্যরা।অভিযানকারী দল জানায়, কারখানাটিতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিপস তৈরি, ক্ষতিকর রং ও লবণ ব্যবহার, খোলা জায়গায় চিপস শুকানো এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া পণ্য সংরক্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়।তবে এসব অভিযোগে বড় ধরনের শাস্তি না দিয়ে চিপস তৈরির উপকরণ কেনার চালান দেখাতে না পারার কারণে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। পরে কারখানার মালিক নাসিম ওরফে চিপস গুড্ডু জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।এদিকে অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন একপেশেভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। একই ধরনের অপরাধ করেও অনেক প্রতিষ্ঠান ছাড় পেয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, শহরের আরও কিছু আইসক্রিম ও চিপস কারখানায় একই ধরনের অভিযান প্রয়োজন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জরিমানা দেওয়া কারখানার মালিক নাসিম ওরফে গুড্ডু অভিযোগ করেন, এর আগে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তারা তার প্রতিষ্ঠানে এসে জরিমানার নামে টাকা নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, তখন কিছু বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হলেও এবার ভিন্ন ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।তিনি বলেন, বারবার এভাবে জরিমানা করা হলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।অভিযোগের বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নীলফামারী জেলা পরিচালক শিহাব আহমেদ বলেন, সোর্সের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সেখানেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেন বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে। অভিযানে অপরাধ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনো নাগরিক লিখিত অভিযোগ দিলে সেটিও যাচাই করে অভিযান চালানো হবে।