রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
চেকপোস্ট

মিশরে প্রবাসীদের বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও পিঠা উৎসব, কায়রোতে রঙিন বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ এবং আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী দেশ মিশর—দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির দেশ হলেও প্রবাসের মাটিতে দুই দেশের মানুষের মিলনে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক বন্ধন। বর্তমানে মিশরের রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করছেন।এই প্রবাসীরা পড়াশোনা, চাকরি ও পেশাগত দায়িত্বের কারণে হাজার মাইল দূরে থাকলেও নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে আয়োজন করেছেন বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও পিঠা উৎসব।শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার-এর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসিক ছাত্রাবাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এ উৎসব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল আজহারের আন্তর্জাতিক ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. নাহলা সাইদি এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন মাদিনাতুল বু’উস আল-ইসলামিয়ার প্রধান ইসাম আল-কাদি।বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে রঙিন শাড়ি, পাঞ্জাবি ও দেশীয় পোশাকে সজ্জিত প্রবাসীদের উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়াম রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে। পিঠা-পায়েস, রসমালাই, লাড্ডু, জিলাপি, ফুচকা, চটপটি ও ঝালমুড়িসহ দেশীয় নানা খাবারের পসরা বসে উৎসবে।রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা উপভোগ করেন। তিনি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কারও বিতরণ করেন।তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও বাঙালি সংস্কৃতি ধরে রাখা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটি নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বিশেষ অতিথি ইসাম আল-কাদি বলেন, বিদেশের মাটিতে নিজ সংস্কৃতি উদযাপন করা গভীর দেশপ্রেমের প্রতিফলন।আয়োজকরা জানান, ক্রিকেট, ফুটবল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। প্রবাসী শিক্ষার্থী ও শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজন প্রবাস জীবনের একাকীত্ব দূর করে এবং প্রবাসীদের মাঝে সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

মিশরে প্রবাসীদের বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও পিঠা উৎসব, কায়রোতে রঙিন বাংলাদেশ