রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

কৃষকের ছেলে হাসিবুর, ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান হাসিবুর রহমান ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত বাবার সঙ্গে মাঠে কৃষিকাজ করার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এই তরুণের অর্জনে আনন্দে ভাসছে পরিবার ও এলাকাবাসী।হাসিবুর রহমানের বাবা বদর উদ্দিন একজন কৃষক এবং মা বিবিজান খাতুন মহব্বতপুর-খানপুর ডিগ্রি কলেজের আয়া। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগেই তার শিক্ষাজীবনের পথচলা এগিয়ে যায়।ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। সংসারের নানা কাজে বাবা-মাকে সহযোগিতা করলেও কখনো পড়াশোনায় অবহেলা করেননি। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের ফলেই তিনি দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরি প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।হাসিবুর পাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, মহব্বতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মহব্বতপুর-খানপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।পড়াশোনা শেষে তিনি সোনালী ব্যাংক পিএলসি-তে অফিসার হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এরই মধ্যে ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নতুন সাফল্য অর্জন করেছেন।হাসিবুরের বাবা বদর উদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। ছেলের এই অর্জনে তিনি গর্বিত। মা বিবিজান খাতুনও সন্তানের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।হাসিবুরের স্ত্রী সিদরাতুল মুনতাহা, যিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক, সবসময় তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি সব সময় বলেছেন, “চেষ্টা চালিয়ে যাও, কখনো ভেঙে পড়ো না।”নিজের অনুভূতি জানিয়ে হাসিবুর রহমান বলেন, তিনি একজন কৃষকের ছেলে। বাবা-মা সীমাহীন কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। তার এই অর্জন শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যও গর্বের।

কৃষকের ছেলে হাসিবুর, ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত