মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

বাকৃবিতে এক সপ্তাহে ৪ হলে সংঘর্ষ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক সপ্তাহে চারটি আবাসিক হলে সংঘর্ষ, পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত বিরোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধ এবং অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই বেশির ভাগ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।গত ২৩ ও ২৪ জুলাই শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে গত রোববার (২ আগস্ট) রাতে একই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।অভিযোগ রয়েছে, আশরাফুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ফসিলের মোড়ে অবস্থান করার সময় শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষ লাঠিসোটা, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হলের গেট, বৈদ্যুতিক বাতি, লোগোসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।এদিকে গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে কৃষি অনুষদের মেসেঞ্জার গ্রুপে আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন জানান, আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পাঠানো হয়েছে।হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি জানান, সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং হলের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি উপাচার্যকে জানানো হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।সার্বিক বিষয়ে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বাকৃবিতে এক সপ্তাহে ৪ হলে সংঘর্ষ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি