অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, জাবিপ্রবির নীতিমালা সংশোধন কমিটিতে ইমরুল কবির
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরুল কবিরের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অভিযোগ থাকলেও তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ক্যাম্পাসের কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা।সম্প্রতি তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নয়ন (আপগ্রেডেশন) নীতিমালা’ সংশোধনসংক্রান্ত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এর আগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ উদযাপন উপলক্ষে গঠিত কমিটিতেও তাঁর নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে ‘শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নয়ন নীতিমালা ২০২২’ সংশোধন, সংযোজন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির ৫ নম্বর ক্রমিকে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী অধ্যাপক ইমরুল কবির।এর আগে গত ২ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ উদযাপনের লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের মূল কমিটিতেও তাঁকে সদস্য করা হয়। তাঁর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা। এ অবস্থায় পরপর দুটি প্রশাসনিক কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক লিটন আকন্দ বলেন, “৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আমাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বা গণতন্ত্রবিরোধী ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একজন শিক্ষকের বিষয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”জাবিপ্রবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব যীনাত মিয়া আজিজুল বলেন, “ক্যাম্পাসের স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে ছাত্রদল সবসময় সোচ্চার। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাব। দায়িত্বগুলো পুনর্বণ্টন করে দেওয়া যেতে পারে।”বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি ফাহাদ আহমেদ বলেন, “ইমরুল কবিরের অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীত ভূমিকা ও অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। তাঁর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানাই।”তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক ইমরুল কবির বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন হলে থাকার বাধ্যবাধকতার কারণে প্রথম বর্ষে কিছু প্রোগ্রামে যেতে হয়েছে। তবে আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বা অন্য কোথাও যদি ভুলবশত কোনো মন্তব্য হয়ে থাকে, তা করা উচিত হয়নি—এটি আমি স্বীকার করেছি। জুলাইয়ের সময় আমি গণবিরোধী বা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে কোনো অবস্থানে ছিলাম না।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর আমি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসন যোগ্যতা বিবেচনা করে কোনো দায়িত্ব দিলে আমি তা যথাযথভাবে পালন করব।”এ বিষয়ে ক্যাম্পাসের কয়েকজন অংশীজনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অতীত ভূমিকা যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ অবস্থান জানানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।