শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

গিজনের কলঙ্ক: যে ‘ফিক্সড’ ম্যাচ বদলে দেয় বিশ্বকাপের নিয়ম

ফুটবলকে বলা হয় সুন্দর খেলা। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু ম্যাচ আছে, যেগুলো আজও বিতর্ক, ক্ষোভ ও অস্বস্তির প্রতীক হয়ে আছে। ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপের পশ্চিম জার্মানি বনাম অস্ট্রিয়ার ম্যাচ তেমনই এক ঘটনা, যা ইতিহাসে পরিচিত ‘ডিসগ্রেস অব গিজন’ বা ‘গিজনের কলঙ্ক’ নামে।১৯৮২ সালের ২৫ জুন স্পেনের এল মলিনন স্টেডিয়াম এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে পশ্চিম জার্মানি ১-০ গোলে হারায় অস্ট্রিয়াকে। স্কোরলাইন সাধারণ হলেও ম্যাচের ভেতরের গল্প ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়।সেবার বিশ্বকাপে নবাগত আলজেরিয়া জাতীয় ফুটবল দল প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পশ্চিম জার্মানি জাতীয় ফুটবল দল-কে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়। পরে চিলিকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি করে তারা।তবে সমস্যার শুরু হয় গ্রুপ পর্বের সূচি নিয়ে। আলজেরিয়া নিজেদের সব ম্যাচ শেষ করে ফেললেও পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া জানত জার্মানি যদি ১ বা ২ গোলের ব্যবধানে জেতে, তাহলে দুই ইউরোপীয় দলই পরের রাউন্ডে যাবে এবং আলজেরিয়া বাদ পড়বে।ম্যাচের ১০ মিনিটে হর্স্ট হ্রুবেশ গোল করে পশ্চিম জার্মানিকে এগিয়ে দেন। এরপরই ম্যাচের গতি হঠাৎ থেমে যায়। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল ছেড়ে সময় পার করতে থাকে। মাঠে বল আদান-প্রদান হলেও লড়াই যেন হারিয়ে যায়।গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা দ্রুতই বিষয়টি বুঝতে পারেন। স্প্যানিশ ও আলজেরিয়ান সমর্থকরা দুয়ো দিতে শুরু করেন। কেউ খেলোয়াড়দের দিকে টাকা দেখিয়ে ব্যঙ্গ করেন, কেউ আলজেরিয়ার নাম ধরে চিৎকার করেন।ফিফা পরে জানায়, নিয়ম ভাঙার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই ম্যাচকে ফুটবলের নৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হয়।এই ঘটনার পরই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে আয়োজনের নিয়ম চালু করে ফিফা। আজকের বিশ্বকাপের বহুল পরিচিত সেই নিয়মের পেছনে রয়েছে গিজনের সেই বিতর্কিত রাতের ইতিহাস। চার দশকের বেশি সময় পরও ‘গিজনের কলঙ্ক’ ফুটবল ইতিহাসে একটি সতর্কবার্তা হয়ে আছে। কারণ সেই ম্যাচ দেখিয়ে দিয়েছিল কখনো কখনো স্কোরবোর্ডে জয় এলেও, হারতে পারে পুরো খেলাটাই।

গিজনের কলঙ্ক: যে ‘ফিক্সড’ ম্যাচ বদলে দেয় বিশ্বকাপের নিয়ম