রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে কীভাবে? জানুন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকেন নির্বাচিত ব্যক্তি। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।সংবিধান অনুযায়ী, কয়েকটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—মেয়াদ শেষ হওয়া, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ এবং অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ।রাষ্ট্রপতি শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে পদত্যাগ করতে পারেন। আবার গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অভিশংসনের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করা সম্ভব।নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়মরাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে এই পদ্ধতিই চালু রয়েছে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান ধাপগুলো—যোগ্যতা:রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।নির্বাচন পরিচালনা:প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।মনোনয়ন প্রক্রিয়া:কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে অন্তত দুইজন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হয়। একজন প্রস্তাবক এবং অন্যজন সমর্থক হিসেবে থাকেন।ভোটগ্রহণ:সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।নির্বাচনের সময়সীমা:সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধান নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হয়।নির্বাচনের সময় সংসদের অধিবেশন না থাকলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ ক্ষেত্রে ভোটের অন্তত সাত দিন আগে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।