বাংলাদেশে কেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনা? জানাল দ্য গার্ডিয়ান
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ যেন রূপ নেয় এক টুকরো লাতিন আমেরিকায়। দেশের অলিগলি থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঘর—সবখানেই দেখা যায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা, জার্সি আর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। এই ব্যতিক্রমী ফুটবল সংস্কৃতির ইতিহাস ও পেছনের গল্প নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ কোটির বেশি মানুষের বাংলাদেশে জাতীয় দল কখনও বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কখনও কমেনি। বরং কয়েক দশক ধরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে নিজেদের দল হিসেবেই সমর্থন করে আসছেন বাংলাদেশিরা।২০০০ সালের শুরুর দিকে গ্রামের একটি সাদাকালো টেলিভিশন ঘিরে শতাধিক মানুষের বিশ্বকাপ দেখার স্মৃতি তুলে ধরেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি শহিদুল পার্থ। তার ভাষায়, গোল হলেই দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মনে হতো যেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে তারাও মাঠে খেলছেন।গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের ব্রাজিল-সমর্থনের শুরু মূলত ১৯৭০-এর দশকে। সে সময় ফুটবল সম্রাট পেলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিল। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ ব্রাজিলের সংগ্রামী ইতিহাস এবং দারিদ্র্য জয় করে পেলের সাফল্যের গল্পে নিজেদের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছিলেন।অন্যদিকে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার সাফল্য এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশিদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। অনেকেই এটিকে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তির বিপক্ষে প্রতীকী বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন।আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রথমবারের মতো রঙিন সম্প্রচারে বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতাও দেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দেয়। সেই সময় থেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থনের ঐতিহ্য ছড়িয়ে পড়ে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও এখনও এই ফুটবল সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন। বিশ্বকাপ ঘিরে তারা আয়োজন করেন ওয়াচ পার্টি, পতাকা উৎসব এবং পারিবারিক মিলনমেলা। অনেকেই মনে করেন, এই ফুটবল উন্মাদনা তাদের শেকড় ও দেশের সঙ্গে মানসিক বন্ধন অটুট রাখে।বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মতে, ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা কেবল ফুটবলের বিষয় নয়; এটি তাদের সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় পরিচয়েরও একটি অংশ।