বাংলাদেশি পাটে ভারতের রেকর্ড শুল্ক, ক্ষোভে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা
বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরও বাড়িয়েছে ভারত। নতুন কাঠামোয় বাংলাদেশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাটের কাঁচা চট বা Jute Sacking Cloth-কেও নতুন করে শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।ভারতের এই সিদ্ধান্তে দেশটির পাট ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বাংলাদেশি পাটের সরবরাহ কমে গেলে ভারতের পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।ভারতের Federation of Small Industries of India-এর ফাউন্ডার সেক্রেটারি ও অ্যাপেক্স কাউন্সিলর চিরঞ্জীব ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাট না এলে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ভারতের রপ্তানি ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ছে। তার অভিযোগ, বাংলাদেশকে সীমিত করতে গিয়ে নেপালের পাটের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের শিল্পে পড়ছে।পাটজাত পণ্যের ব্যবসায়ী ও বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের সদস্য প্রলয় ব্রহ্মচারীও নীতিগত বাধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, বাংলাদেশের পাটের মান ও কাঁচামালের বৈশিষ্ট্যের কারণে ভারতীয় শিল্পের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা সীমিত হলে ক্ষুদ্র শিল্প বেশি চাপে পড়বে।ভারতে বাংলাদেশ ও নেপালের নির্দিষ্ট পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের ইতিহাস শুরু হয় ২০১৫ সালে। ২০১৭ সালে তদন্ত শেষে নির্দিষ্ট পণ্যে প্রথম শুল্ক আরোপ করা হয়।২০২২ সালের পর্যালোচনায় শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। এরপর ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের আবেদনের পর নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়।২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের DGFT-এর নতুন সিদ্ধান্তে শুল্ক কাঠামোয় আরও পরিবর্তন আনা হয়েছে।নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশি পাটজাত চার ধরনের পণ্য রয়েছে
Jute Yarn / Twine
Hessian Fabric
Jute Sacking Bags
Jute Sacking Cloth
এর মধ্যে Jute Sacking Cloth এবার নতুন করে শুল্কের আওতায় এসেছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক হার নির্ধারণের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের পণ্যে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। নেপালের ক্ষেত্রেও পৃথক শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে।ভারতের যুক্তি হলো, বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে পাটজাত পণ্য প্রবেশের কারণে দেশীয় পাটকলগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে। দেশটির পাটশিল্পে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কৃষক পরিবার যুক্ত থাকায় শিল্পটি সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান।শুল্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি পাট আমদানির পরিবহন ব্যবস্থাতেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাটবাহী ট্রাক ভারতে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে সেই প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।নতুন ব্যবস্থায় স্থলসীমান্ত দিয়ে পাটের ট্রাক প্রবেশে বিধিনিষেধের কারণে আমদানিকারকদের সমুদ্রপথে মুম্বাইয়ের নহাভা শেভা বন্দর ব্যবহারের দিকে যেতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটিই বাড়ছে।
বাংলাদেশি পাটের ওপর ভারতের শুল্কনীতি তাই শুধু দুই দেশের পাট ব্যবসাকেই নয়, ভারতীয় পাটকল, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজারকেও প্রভাবিত করছে এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের একাংশ।